সংবাদ শিরোনাম

নবাবগঞ্জের আলোচিত মোখলেছুর হত্যা মামলার অন্যতম আসামী কয়েজ গ্রেপ্তার


 নিজস্ব প্রতিবেদক.

ঢাকার নবাবগঞ্জের বহুল আলোচিত মোখলেছুর রহমান হত্যা মামলার অন্যতম এজাহারনামীয় আসামি কয়েজ (৩০) কে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-১০। সে দীর্ঘদিন যাত পলাতক ছিল। 

বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর লালবাগ থানার পলাশীর মোড় এলাকায় বিশেষ অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত কয়েজ উপজেলার কৈলাইল ইউনিয়নের নয়াকান্দা গ্রামের শরীফুল ইসলামের ছেলে।

ঘটনার সূত্রপাত, ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার কৈলাইল ইউনিয়নের নয়াকান্দা এলাকায় মোটরসাইকেল নিয়ে বিয়ে বাড়িতে যাওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় যুবক মোসলেম উদ্দিন পায়েল (২১) ও জামাল (৩০)-এর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এসময় নিহত
মোখলেছুর রহমান (৫০) দু’পক্ষকে সমঝোতায় আনার চেষ্টা করেন।

কিন্তু কয়েক দিন পর পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়।
১১ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টার দিকে জামাল ও তার সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মোখলেছুর রহমানের ওপর হামলা চালায়। এলোপাথাড়ি আঘাতের ফলে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান মোখলেছুর।

পরদিন নিহতের স্ত্রী বিলকিস বেগম নবাবগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নং–১২, তারিখ: ১২/০২/২০২৫। মামলায় জামালসহ একাধিক জনকে আসামী হিসেবে উল্লেখ করেন।

ঘটনার পর থেকেই আসামিরা পলাতক ছিল। গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে র‌্যাব-১০ অবশেষে ১১ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) রাতে রাজধানীর লালবাগ থানাধীন পলাশী মোড় এলাকায় অভিযান চালায়। এসময় এজাহারনামীয় আসামি কয়েজকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাতেই গ্রেফতারকৃত আসামিকে নবাবগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করে।

র‌্যাব-১০-এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ও সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) তাপস কর্মকার সংবাদমাধ্যমকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে  বলেন, “অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। র‌্যাব আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

নবাবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুমিনুল ইসলাম জানান, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আসামীকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আদালতের পরোয়ানাও ছিল। 

নিহতের স্ত্রী বিলকিস বেগম স্বামীর হত্যার সঠিক বিচার দাবি করে বলেন, “আমার স্বামী নিরীহ মানুষ ছিলেন। তিনি শুধু ঝগড়া মীমাংসা করতে গিয়েছিলেন। অথচ তাঁকেই হত্যা করা হলো। আমরা প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য র‌্যাবকে ধন্যবাদ জানাই। তবে এখনো যারা পলাতক আছে তাদেরও দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করছি।

স্থানীয়দের দাবী, এ ঘটনায় যেন দ্রুত বিচার সম্পন্ন হয় এবং দোষীরা আইনের আওতায় এসে শাস্তি পায়।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন