সংবাদ শিরোনাম

নবাবগঞ্জে রাস্তার জন্য কেনা সম্পত্তি জবর দখলের অভিযোগ


নবাবগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি.

ঢাকার নবাবগঞ্জের বারুয়াখালী ইউনিয়নের কুমার বাড়িল্যা এলাকায় বাড়ির রাস্তার জন্য কেনা জমি জবর দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আইনের দারস্থ হয়েও পরিবারটি হামলার শিকার হয়। পঙ্গুত্ব জীবনযাপন করছেন ঐ পরিবারের বৃদ্ধা নারী।

জানা যায়, উপজেলার বারুয়াখালী ইউনিয়নের কুমার বাড়িল্যা মৌজার আরএস-১৬২নং দাগের ২৩ শতাংশ, এর কাতে ১৪.৩৭ শতাংশ এর কাতে দক্ষিণ ছাহাম হতে ০.৬৭ শতাংশের ওয়ারিশ সূত্রে মালিক মো. আলী আকবর। আলী আকবরের কাছ থেকে নবাবগঞ্জ সাবরেজিস্টার অফিসে বিগত ০৫/১০/২০২১ তারিখে ৬০৭৩ নম্বর সাফ কবলা দলিল মূলে খরিদ করেন প্রতিবেশি ও আত্মীয় ইছাহাক মোল্লা (৭০)। জমিটির পূর্বে ইটসলিং রাস্তা ও পশ্চিমে ইছাহাক মোল্লার নিজ বাড়ি । ইছাহাক মোল্লা বাড়ি থেকে রাস্তায় বের হওয়ার জন্য জমিটি ক্রয় করে নিজ নামে নামজারী, জমা, খারিজ করেন। 

এমতাবস্থায় আলী আকবরের ভাই-বোনদের কাছ থেকে একই দাগের জমি ক্রয় করেন প্রতিবেশি ও প্রবাসী আব্দুর রহিম ও তার স্ত্রী সুমি বেগম। তারা সেখানে বালু ভরাট করে আধাপাকা টিন সেট ঘর নির্মান করে বসবাস করছেন। কিন্তু ইছাহাক মোল্লার রাস্তার জন্য কেনা জমি জবরদখল করে মাটি ভরাট করেছেন আব্দুর রহিম গংরা। এসব বিষয়ে পরিবারটি প্রশাসনের দাড়স্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী ইছাহাক মোল্লা (৭০) অভিযোগ করেন, গত ৩ সেপ্টেম্বর বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে শিকারীপাড়া তহসিল অফিসের তহসিলদার মো. শাহীন জমিটি সরেজমিন তদন্তে আসেন। এসময়ে আমাকে জমিটির অবস্থান সম্পর্কে জানতে চান। আমি দেখিয়ে দেয়ার সময়ে প্রতিবেশি রহিমের স্ত্রী সুমিসহ অজ্ঞাত কয়েকজনের নির্দেশে আমছের আলীর ছেলে অরসিকুল, মৃত সাবেরের ছেলে সালাম, রেবেকা সহ অজ্ঞাতরা বাঁশ ও লাঠি নিয়ে হামলা করে। তারা আমাকে লাঠি দিয়ে মারধর করে। আমার ছেলে সিরাজ (৩২) বাঁচাতে এলে তাকেও মারধর করা হয়। আমার স্ত্রী ফিরোজা বেগম (৬০) এগিয়ে এলে তাকে বাঁশ দিয়ে আঘাত করে পায়ের হাড় ভেঙে ফেলে। আহতরা সবাই নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এঘটনায় আমি নবাবগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছি।

বৃদ্ধা ফিরোজা বেগম (৬০) জানান, আমরা গরিব মানুষ। স্বামী-সন্তান দিনমজুরী করে। কোন রকমে জীবনধারণ করছি। তার ওপর হামলা করে আমার পা ভেঙে দেয়ায় মানবেতর জীবনযাপন করছি। ওরা আমাকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে হামলা করেছিল। আমি এর বিচার চাই।

এঘটনায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দখলদার আব্দুর রহিম গংরা বালু ভরাট করে পুরো জমিটি টিনের বেড়া দিয়ে ঘিরে রেখেছেন। তার ভিতর টিনের ছাপড়া ও রান্না ঘর তুলে দখল করে রেখেছেন। 

এবিষয়ে আব্দুর রহিমের স্ত্রী সুমি বেগমের বাড়িতে গেলে তিনি দাম্ভিকতার সাথে জানান, এখানে ইছাহাক মোল্লা কোন জমি নেই। ওনার জমি উত্তর দিকে। আলী আকবরের অন্যান্য ওয়ারিশদারদের জমি কোন দিকে জানাতে চাইলে সুমি বেগম জানান, দক্ষিণ পাশের অংশ। তবে আলী আকবরের জমি উত্তরে কেন থাকবে জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।

হামলা মামলার আসামী অরশিকুলের বাড়িতে গেলে তিনি বাড়িতে নেই বলে জানান তার ভাই ওহিদুল। অপর আসামী সালামের বাড়িতে গেলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

নবাবগঞ্জ থানার বারুয়াখালী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক জগন্নাথ জানান, হামলার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। এ মামলার আসামী অরশিকুল ও সালাম নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন