সংবাদ শিরোনাম

সিরাজদিখানের সনাতনীদের ঘরে ঘরে আনন্দ-ভক্তিতে পালিত শ্রীশ্রী লক্ষ্মীপূজা

দেবব্রত দাস দেবু, সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি.

যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সনাতন (হিন্দু) সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্রী শ্রী লক্ষ্মী পূজা ঘরে ঘরে পূর্ণ আনন্দ ও ভক্তির আবহে পালিত হয়েছে মুন্সীগঞ্জ সিরাজদিখান উপজেলায়। 

আজ সোমবার (৬ অক্টোবর) সকাল থেকে শুরু হয় দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা, যা চলে গভীর রাত পর্যন্ত।

প্রতিটি বাড়িতে সাজানো হয় পূজার বেদি, জ্বালানো হয় ধূপ-দীপ, আর আলোকসজ্জায় ঝলমল করে ওঠে এলাকা। নারী-পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধ সকলে অংশ নেন এই ধর্মীয় উৎসবে। শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি ও মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বলনে মুখরিত হয়ে ওঠে প্রতিটি গৃহ।

পূজারীরা দেবী লক্ষ্মীর আশীর্বাদ কামনায় পরিবারের মঙ্গল, শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য  প্রার্থনা জানান। স্থানীয় পূজা উদ্যাপন কমিটির নেতারা বলেন, লক্ষ্মী পূজা হলো ভক্তি, ঐক্য ও পারিবারিক সম্প্রীতির প্রতীক। দেবীর আশীর্বাদে যেন সবার ঘরে সুখ ও শান্তি নেমে আসে, এটাই আমাদের কামনা।

পুরোহিত মদন চক্রবর্তী বলেন, সনাতন (হিন্দু) শাস্ত্র অনুসারে, ভগবান বিষ্ণুর স্ত্রী লক্ষ্মী সম্পদ, সৌভাগ্য, শক্তি, বিলাসিতা, সৌন্দর্য, উর্বরতা এবং মঙ্গলময়তার দেবী। তিনি প্রকৃতির সুন্দর এবং দানশীল দিকের প্রতিনিধিত্ব করেন। তাই দেবীর কৃপা লাভের আশায় আজ সোমবার দুপুর ১২টা থেকে লক্ষ্মীপূজা করা হবে। এ পূজা সাধারণত সনাতন ধর্মালম্বীদের ঘরে ঘরে অনুষ্ঠিত হয়। সর্বজনীনভাবে খুব কম মন্ডপে এ পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।

ওই পুরোহিত বলেন, যারা তার অনুগ্রহের যোগ্য তাদের শক্তি, আনন্দ এবং সমৃদ্ধি দেন তিনি (লক্ষ্মী)। তার আশীর্বাদ পেতে, ভক্তকে অবশ্যই জীবনের আইনকে সম্মান করতে হবে ও অস্তিত্বের বিস্ময়কর   প্রশংসা করতে হবে।

সাথী সমাজকল্যান সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক লতা মন্ডল বলেন, ঐতিহ্যগতভাবে সনাতন (হিন্দু) নারীরা এ পূজা উদযাপন করেন। তাই আমরা এ উপলক্ষে উপবাস থাকব।  গৃহের উপাসনার আসনে বেদীর মূর্তি/পট স্থাপন করব। লক্ষ্মীর পাশে থাকবে কলা বউ বা নারকেল বউ। ঘরের মেঝতে লক্ষ্মীর পায়ের ছাপ ও অল্পনা দেব। আলোকসজ্জায় পুরো ঘর আলোকিত করব ।

উৎসবকে কেন্দ্র করে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ, আর সর্বত্রই ছিল আনন্দ ও ধর্মীয় উচ্ছ্বাসের ছোঁয়া।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন