নিজস্ব প্রতিবেদক,
ঢাকা-
১ (দোহার ও নবাবগঞ্জ) আসনে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ এমপি পদপ্রাথী
ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম বলেছেন, রাজধানীর কাছের দুটি উপজেলা দোহার ও
নবাবগঞ্জ হলেও সুযোগ সুবিধার দিক থেকে থেকে বঞ্চিত। অত্যান্ত পরিতাপের বিষয়
হচ্ছে, ২০ বছর ধরে তুলশীখালী ও মরিচা সেতুর টোল আদায় করার পরেও একটি
চক্রের ইশারায় ফের টোল ব্যবস্থা চালুর জন্য কয়েক দফা ইজারা আহ্বান করা
হয়েছে।
শনিবার (২২ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে ঢাকা-বান্দুরা সড়কের সিরাজদিখানের
তুলশিখালী থেকে দোহারের মুকসুদপুর পদ্মা সরকারি কলেজ পর্যন্ত মোটর
শোভাযাত্রা শেষে সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা তুলে ধরেন।
দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, তিন কিলোমিটার দীর্ঘ
শোভাযাত্রায় প্রায় ৫ হাজার মোটর সাইকেল সহ নেতাকর্মীরা অংশগ্রহন করেন।
ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি বিনীত আহ্বান
জানিয়ে বলেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে এলাকাবাসী সেতু দুটিতে টোল না দিয়ে
চলাচল করতে পারছেন। তারা এখন যেমন টোল না দিয়ে যাতায়াত করছেন। ভবিষ্যতেও
টোল মুক্ত যাতায়াত করতে চান। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীও জনগণের এই দাবির
সঙ্গে একমত। ফের এই দুটি সেতুতে ইজারা বন্দোবস্তের অপচেষ্টা করলে
ছাত্র-জনতা ও এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিহত করা হবে।
ব্যারিস্টার
নজরুল ইসলাম বলেন, ২০০৫ সালের ৫ অক্টোবর মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান
উপজেলার ধলেশ্বরী নদীর উপর নির্মিত তুলশিখালী সেতু এবং এর দেড় কিলোমিটার
দূরে মরিচা এলাকার ইছামতি নদীর উপর (মহাকবি কায়কোবাদ) সেতুর উদ্বোধন করা
হয়। উদ্বোধনের দিন থেকেই টোল আদায় শুরু হয়। যদিও সেতু দু’টি মুন্সীগঞ্জে
অবস্থিত, তবে সবচেয়ে বেশি যাতায়াত করে ঢাকা জেলার দোহার ও নবাবগঞ্জের
মানুষ। প্রতিদিন এই সড়কে অন্তত কয়েক লাখ মানুষের চলাচল করেন। সেতু নির্মাণ
ব্যয়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি টোল ইতিমধ্যে আদায় হয়ে গেছে। কিন্তু অত্যন্ত
পরিতাপের বিষয় ফের টোল আদায়ের জন্য ইজারা আহ্বান করেছে। এর সঙ্গে রয়েছেন
একশ্রেণীর সুবিধাবাদী লোকজন।
তিনি
বলেন, এ এলাকার অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজে জড়িত। টোল, পরিবহন সংকট ও শ্রমিকের
উচ্চমূল্যের কারণে তাদের উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়, ফলে সবজির দাম বেড়ে যায়।
বিভিন্ন সময়ে সেতু দু’টির টোলমুক্ত করার দাবিতে সামাজিক সংগঠনগুলো বহুবার
মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে। কিন্তু কার্যকর কোনো পদক্ষেপ
নেয়া হয়নি। পরে গত ৫ আগস্ট আমাদের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের সময়
আন্দোলনের মুখে প্রশাসন টোল আদায় বন্ধ করতে বাধ্য হয়। আমরা তাদেরকে ধন্যবাদ
জানাই। আমরা আর সেতু দু’টির ইজারা না দেওয়ার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট
দপ্তরের কাছে জোর দাবি জানাই।
সংক্ষিপ্ত
পথসভায় আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের ঢাকা জেলার আমীর
মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন, সেক্রেটারী এবিএম কামাল হোসাইন প্রমুখ।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন