নিজস্ব প্রতিবেদক.
গ্রেফতারি পরোয়ানার আসামীর সঙ্গে শুধুমাত্র নামের মিল থাকায় মো. আলমাছ নামে এক যুবককে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে দোহার থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। শুধু মাত্র নাম ও পিতার নামে মিল থাকায় তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
জানা যায়, ২০০২ সালে মিরপুর থানায় (মামলা নং-৩২ (১)০২, মেট্রোএসটি ৮০৪/০২) দোহার উপজেলার দক্ষিণ বাহ্রার মো. খলিল আহম্মেদের ছেলে মো. আলমাছের নামে একটি মামলা হয়। মামলায় ২০০৪ সালে ১০ বছরের সাজা হয় আলমাছের। এরপর থেকে সে পলাতক রয়েছে।
সেই মামলায় গত মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে দোহার উপজেলার কুসুমহাটি ইউনিয়নের সুন্দরীপাড়া থেকে মো. আলমাছ নামে এক যুবককে গ্রেফতার করে দোহার থানার মাহমুদপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরির্দশক (এসআই) জুবাইদুল হক। এরপর তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
গ্রেফতারকৃত যুবকের পরিবারের দাবি, আলমাছ কৃষিকাজ ও ইলেকট্রিকের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তিনি জীবনে কখনোই ঢাকা শহরে থাকেন নাই বা যাননি। অথচ ২০০২ সালে মিরপুর থানার একটি মামলায় তার নাম ও বাবা নাম মিল থাকায় নিরপরাধ ভাইকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
আলমাস এর বোন নাজমা আক্তার বলেন, ২০১৮ সালেও আমার ভাইকে আরেকবার গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। তবে মূল আসামীর সাথে মিল না থাকায় তৎকালিন কুসুমহাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন আমজাদ ও স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল কালাম আজাদসহ গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে চর মোহাম্মদপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ গৌতম কুমার সরকারের জিম্মায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এবারও পুলিশ তাকে গ্রেফতার করার পর আমরা তাদের অনেক অনুরোধ করে বলেছিলাম, সাজাপ্রাপ্ত আসামী আর আমার ভাই একই ব্যক্তি নয়। আগের কাগজপত্রও তাদের দেখিয়েছিলাম, কিন্তু পুলিশ কোন কথাই শুনেনি। তাদের ভুলের কারণে আমার ভাই আজ নিরপরাধ হয়েও কারাগারে। আমরা আমার ভাইয়ের মুক্তি চাই।
নয়াবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ফেরদৌসি বেগম বলেন, স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরু ভূইয়া ও গ্রাম পুলিশ ঝন্টু সরকারের তথ্য মতে সাজাপ্রাপ্ত আসামী মো. আলমাছের বসত বাড়িঘর নদী ভাঙনে বিলীন হয়ে যায়। তারা এখন কোথায় বসবাস করে কেউ জানে না।
এবিষয়ে দোহার থানার উপপরির্দশক (এসআই) ও ঐ মামলার আয়ু জুবাইদুল হক বলেন, আসামী গ্রেফতার করার পর ঐ পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে নিরপরাধ দাবি করা হলে আমি বিষয়টি আমার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাই। তখন তাদের আদেশে তাকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এবিষয়ে দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান আলী বলেন, সমস্ত প্রমাণ পেয়ে দেখে বুঝে আসামীকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। তারপরেও যদি আসামী পক্ষের কোন সন্দেহ থাকে তাহলে তারা আদালতে প্রমান দিয়ে তাকে মুক্ত করে আনুক।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন