দেবব্রত দাস দেবু, সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি.
মুন্সীগঞ্জ সিরাজদিখান উপজেলার দানিয়াপাড়া (চোরমর্দ্দন) বড় আখড়া, রশুনিয়া শ্রী শ্রী মদন মোহন রাধারানী জিউ মন্দির প্রাঙ্গনে শেষ হলো ৪৮ প্রহরব্যাপী বার্ষিক নামযজ্ঞানুষ্ঠান ও উৎসব।
আজ শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারী) সমাপনী দিনে আশ্রম চত্বরে ছিল গ্রামীণ মেলাসহ নানা আয়োজন। অনুষ্ঠানাদির মধ্যে ছিল শ্রীমদ্ভাগবত পাঠ, মহানামযজ্ঞের অধিবাস কীর্তন, তারকব্রহ্ম নামসংকীর্তন, রাধাগোবিন্দের অষ্টকালীন লীলা কীর্তন, কুঞ্জভঙ্গ, জলকেলী, মহন্তের ভোগরাগ ও অপরাহ্নে প্রসাদ বিতরণ।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দিন উপস্থিত ছিলেন শ্রী নব কুমার সাহা, আচার্য শ্রী অপূর্ব ব্যানার্জী গুরু মহারাজ, শ্রী নিত্যানন্দ গোস্বামী প্রভুপাদ, শ্রী গোপীনাথ গোস্বামী, শ্রী ভক্তিকিঙ্কর মহারাজ, দানিয়াপাড়া শ্রী শ্রী মদন মোহন রাধারানী জিউ মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক চন্দ্রনাথ বনিক, শ্রীশ্রী মদন মোহন রাধারানী জিউ মন্দিরের একনাম কমিটির সভাপতি শ্রী অজয় কৃষ্ণ দে, কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্রী শ্যামল দেবনাথ, এ্যাডভোকেট সমরেশ নাথ,ডা. পুলক নাথ বণিক প্রমুখ।
দানিয়াপাড়া শ্রীশ্রী মদন মোহন রাধারানী জিউ মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক চন্দ্রনাথ বনিক ও ডা. পুলক নাথ বণিক বলেন, কীর্তন বাংলা সংস্কৃতি ও বাংলা সঙ্গীতের অন্যতম আদি একটি ধারা। গানের মাধ্যমে ধর্মচর্চা আর ঈশ্বকে আরাধনার প্রচলন প্রাচীনকাল থেকেই গ্রামবাংলার সর্বত্র চলে আসছে। ভগবান দুষ্টের দমনে সৃষ্টির লক্ষ্যে ধর্ম রক্ষার্থে যুগে যুগে মর্ত্যে আবির্ভূত হয়েছেন।
ভগবানের আবির্ভাব কালের গুনাবলী আর লীলা নিয়ে বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের মাধ্যমে (খোল, কর্তাল, বাঁশি আর হারমোনিয়াম) যে গান পরিবেশন করা হয় তাই কীর্তন। মানবজাতি অতি সহজে ঈশ্বরের সাধনা বা ঈশ্বরকে ভজন করার একটি উপায় হিসেবে এ কীর্তনের উদ্ভব। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলার বৈষ্ণবধর্মজাত সঙ্গীতধোরার বিকশিত রূপই কীর্তন। কীর্তন দুপ্রকার নামকীর্তন বা নামসংকীর্তন এবং লীলাকীর্তন বা রসকীর্তন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন