সিরাজদিখান (মুন্সিগঞ্জ) প্রতিনিধি.
মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান কেয়াইন ইউনিযনের লক্ষিবিলাশএলাকায় এক গৃহবধূকে যৌতুকের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ২৮ মার্চ দুপুরে ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাদী হয়ে সিরাজদিখান থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগটি বর্তমানে তদন্তাধীন। জনি চন্দ্র বালা ঢাকা সদরঘাট এলকায় রেডিমেট পোষাক ব্যাবসায়ী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১০ জুলাই জয়া মন্ডলের সঙ্গে একই জেলার শ্রীনগর উপজেলার ষোলঘড় বালা গ্রামের ধীরেন চন্দ্র বালার ছেলে জনি বালার (৩৫) বিয়ে হয়। তাদের দুর্লভ বালা নামে একটি পুত্র সন্তান রয়েছে, যার বয়স বর্তমানে প্রায় সাড়ে তিন বছর। বিয়ের সময় কনের পরিবার থেকে নগদ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ৯ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, একটি ৪৩ ইঞ্চি টেলিভিশনসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র বিয়ের পণ প্রদান করা হয়।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই স্বামী জনি বালা ও তার পরিবারের সদস্যরা অতিরিক্ত যৌতুকের দাবিতে তাকে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছে। এমনকি একটি স্বর্ণের চেইনের দাবিতে তাকে মারধরের দৃশ্য প্রবাসী বাবাকে ভিডিও কলে দেখানোর ঘটনাও ঘটে। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করেও তাকে মারধর, গালিগালাজ এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হতো বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ-বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। বরং সাম্প্রতিক সময়ে নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায় এবং তাকে সরাসরি হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
বর্তমানে প্রায় এক বছর ধরে জয়া মন্ডল তার বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন। তিনি জানান, স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার ও তার সন্তানের ভরণ পোষণ বন্ধ করে দিয়েছে। এমনকি স্বামীর বাড়িতে ফিরে যেতে চাইলে তাকে বাধা দেওয়া হয় এবং জোরপূর্বক গেলে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের দিয়ে মারধরের হুমকি দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী আশঙ্কা করছেন, যেকোনো সময় তার এবং তার সন্তানের ক্ষতি করা হতে পারে। এ অবস্থায় তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এবিষয়ে অভিযুক্ত জনি বালা বলেন, আমি আমার স্ত্রীকে নির্যাতন ও প্রাননাশের হুমকি দেইনি বরং ছোট মাছ কিনে আনাতে সে মাকে বটি দা দিয়ে কোপাতে এসেছিল।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি (তদন্ত) মো. হাবিবুর রহমান জানান, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন