দোহার (ঢাকা) প্রতিনিধি.
দোহারে কুকুরের কামড়ের ভ্যাকসিন মেলে না হাসপাতালে। এতে ব্যহত হচ্ছে দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্য সেবা।
রোগীর স্বজনরা আক্ষেপ করে বলছেন, আমরা গরিব বলেই সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসি। গরিবের আর সেবা কিসের। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার বলছেন, কুকুরের কামড়ের ভ্যাকসিনের চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম। তাই মজুদ নেই।
তবে সাধারণ মানুষের অভিমত, এমতাবস্থায় হাসপাতাল গুলোতে ওষুধ সংকটে সাধারণ মানুষের সেবার দুয়ার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এটা কি কৃত্তিম সংকট নাকি বরাদ্দের সীমাবদ্ধতায় আটকে আছে সেবা। এ সুযোগে ব্যবসা করে নিচ্ছে দেশের নামী দামী ওষুধ কোম্পানী। না সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় দোহার উপজেলার নারিশা খালপাড় এলাকায় ১৩ বছর বয়সী আব্দুল আলীমকে একটি কুকুর
কামড়ে দেয়। পরিবারের
সদস্যরা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে সেখানে প্রয়োজনীয়
ভ্যাকসিন না থাকায় চিকিৎসা প্রদান সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।
উপজেলা
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্বরত উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার প্রদীপ সরকার
জানান, “আমাদের এখানে কুকুরের কামড়ের ভ্যাকসিন (এআরভি) মজুদ নেই।” ফলে
আক্রান্ত শিশুটিকে বাইরে থেকে ভ্যাকসিন কিনে এনে পুশ করা হয়।
দোহার
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. রবিউল ইসলামের
সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সর্বশেষ ১২০টি ভ্যাকসিন থোক বরাদ্দ
পেয়েছিলেন। যার একটিতে পাঁচ জনকে ভ্যাকসিন দেয়া সম্ভব হয়। তাও শেষ হয়ে গেছে। কেন না, শুধু দোহার নয় নবাবগঞ্জসহ পাশ্ববর্তী চরাঞ্চলের লোকজন আসেন এখানে ভ্যাকসিন সেবা নিতে। এতে চাহিদার
তুলনায় বরাদ্দ কম থাকায় সেবা দেয়া সম্ভব হয় না।
হাসপাতালে চিকিৎসা
নিতে আসা শেখ মামুন নামের এক রোগী জানান, “আগে আমরা যেভাবে চিকিৎসা পেতাম,
এখন আর সেটা পাই না। ভ্যাকসিন তো দূরের কথা, সাধারণ ওষুধও পাওয়া যায় না।”
এ
অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দারা স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের
দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন, যেন দ্রুত এই সংকটের সমাধান হয় এবং সাধারণ মানুষ
সঠিক স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারেন।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন