মাদ্রাসার জমিতে বালু ভরাটকে কেন্দ্র করে ফেসবুকে আপত্তিকর স্ট্যাটাস ও থানায় মিথ্যা অভিযোগের প্রতিবাদে সমাজের মুরুব্বীদের সংবাদ সম্মেলন
নবাবগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি.
ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার নূরনগর মীরেরডাঙ্গী নুরে-মদিনা হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার ক্রয় ও দানকৃত ১১ শতাংশ জমির উপর বালু ভরাটকে কেন্দ্র করে স্থানীয় হোসেন তুষার নামে এক দলিল লেখক সম্প্রতি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে আপত্তিকর স্ট্যাটাস ও থানায় মিথ্যা অভিযোগ করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বান্দুরা মীরেরডাঙ্গী ৮ সমাজের মাদবর ও মুরুব্বিগণ।
বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে নূরনগর ক্লাব ভবনে স্থানীয় সাংবাদিকদের ডেকে এ সংবাদ সম্মেলন করেন তারা।
সমাজের মাদবর মো. ফয়েজ অভিযোগ করে বলেন, তুষারের আপন চাচা খোরশেদ আলমের নামে রেকর্ডকৃত ১১ শতক জমি থেকে আমরা সাড়ে ৫ শতাংশ জমি মাদ্রাসার নামে ক্রয় করি এবং পরে তিনি আরো সাড়ে ৫ শতক জমি মাদ্রাসার নামে দান করেন। মোট ১১ শতক জমি তুষারের উপস্থিতিতে মাপঝোপ করে সীমানা নির্ধারণ করে জমির উপর বালু ভরাট করা হয়।
পরে তুষার কোন মতলবে তার ফেইসবুক আইডিতে আপত্তিকর কথা লিখে যেমন “আমরা নাকি রাতের আধাঁরে জমি জবর দখল করেছি” “জোরপূর্ব দখলকৃত জমিতে মাদ্রাসা তৈরী ইসলাম সমর্থন করে?” “মানুষের হক নষ্ট করে কিসের মাদ্রাসা“এ ধরণের আরো ইসলাম বিরোধী অনেক আপত্তিজনক কথা লিখেছে যা আমাদের সম্মানে আঘাত করেছে। তাছাড়াও আমাদেরকে বিভিন্ন ভাবে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করেছে আমরা সমাজবাসী এর বিচার চাই এবং সামাজিকভাবে তার শাস্তি দাবী করছি।
এ সময় খোরশেদ আলম অভিযোগ করে বলেন, আমি আমার রেকর্ডকৃত ১১ শতক জমি স্বেচ্ছায় মাদ্রাসার নামে দান ও হস্তান্তর করেছি এতে আমার ভাতিজা তুষারের আপত্তি কিসের? তাছাড়া সে নিজে উপস্থিত থেকে মাপঝোপ করেছে। তখন তো কোন কথা বলেনি। অথচ সে আমার নামে জমির বিষয়ে থানায় মিথ্যা অভিযোগ করেছে আমার সম্মান নষ্ট করেছে। আমি এর বিচার চাই।
এ সময় নূরনগর মিরেরডাঙ্গী নুরানী সংঘের ক্লাবের সভাপতি আব্দুল হালিম বলেন, মসজিদ. মাদ্রাসা, কবরস্থান, ক্লাব এ সব সামাজিক প্রতিষ্ঠান। এ সবের বিরুদ্ধে বিরোধীতা করা মানুষের কাজ না। তুষার যে সব কথা তার ফেসবুক আইডিতে লিখে পোষ্ট করেছে, তা সম্পূর্ণ ইসলাম বিরোধী। যে কোন সময় ডাঙ্গা বাধঁতে পারে। কাজেই সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে আমার অনুরোধ তাকে আইনের আওতায় এনে বিচার করা হোক।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত দলিল লেখক মনিরুল হাসান ওরফে হোসেন তুষার মুঠো ফোনে জানান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে নিষ্কণ্টক জমি থাকতে হয়। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ শরিয়ত মোতাবেক জমিটি নেয়নি তাই স্ট্যাটাস দিয়েছি।
সংবাদ সম্মেলনে নুরনগর মীরেরডাঙ্গী নুরে-মদিনা হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার পরিচালক ও ৮ সমাজের মাদবর ও মুরুব্বিগণ উপস্থিত ছিলেন ।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন