দোহার (ঢাকা) প্রতিনিধি.
ঢাকার
দোহার উপজেলার সুতারপাড়া ইউনিয়নের ঝনকি গ্রামে গত শনিবার রাতে সংঘটিত
নৃশংস হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও
স্থানীয় জনসাধারণ।
আজ বুধবার (১ অক্টোবর) বেলা ১২টার দিকে দোহার উপজেলা সড়কের কালেমা চত্বরে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে
অংশগ্রহণকারীরা অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার, একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ
তদন্তের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত এবং দোষীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি
দাবি করেছেন।
মানববন্ধনে
উপস্থিত হামলায় আহত সুমা আক্তার সাংবাদিকদের জানান, শনিবার রাত আনুমানিক
৯টার দিকে যুবদল নেতা মামুন মাঝির ইন্ধনে মুকসেদ মাঝি, আতিয়ার খালাসী,
ফারুক, মহিবুল্লাহসহ প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন সশস্ত্র হামলাকারী তাঁদের ওপর
চড়াও হয়। হামলাকারীরা চাপাতি, রামদা ও শাবলের মতো দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার
করে।
ক্রন্দনরত সুমা
আক্তার আরও জানান, হামলায় গুরুতর আহত আমার বাবা ইসরাফিল শিকদার ও ফুফাতো
ভাই সেলিমকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। তাঁরা বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ
হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে সেলিমের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং
তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। তিনি সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ করে বলেন,
"মতিন সেলিমকে কুপিয়েছে। এখনো কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। আমরা চরম
নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি এবং বিভিন্ন মাধ্যমে হুমকি পাচ্ছি।"
মানববন্ধনে
উপস্থিত আরেকজন ভুক্তভোগী রোকসানা জানান, পূর্বের শত্রুতা ও জায়গা-জমি
সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই এই হামলার ঘটনা ঘটে। তিনি অভিযোগ করেন,
হামলাকারীরা মাদকের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ঘটনার দিন রুবেলের বাড়ির সামনে
কিছু স্থানীয় যুবক অভিযুক্তদের বাধা দিতে গেলে, তারা মামুন মাঝি, মুকসেদ
মাঝি ও আতি খালাসীকে ফোন করে নিয়ে আসে। এরপর ১৫ থেকে ২০ জন সবুজন, মতিনসহ
আরো কয়েকজন মিলে নির্বিচারে কোপাতে শুরু করে।
রোকসানা
বলেন, "আমরা পায়ে ধরেও রক্ষা পাইনি। তারা হুমকি দিয়ে বলে, 'তোগোরে আইজ
মাইর্যা ফালামু'। সেলিমকে খুব খারাপভাবে কোপানো হয়েছে এবং ইস্রাফিল
শিকদারকে শাবল দিয়ে আঘাত করা হয়। তারা সুমার কাপড় ছেঁড়ার চেষ্টা করে
এবং কোপায়।" তিনি দ্রুত গ্রেপ্তার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতের জোর দাবি
জানান।
মানববন্ধনে অংশ
নেওয়া স্থানীয়রা প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন যে, এই জঘন্য
হামলার সঙ্গে জড়িত সকল দোষীকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত
করা হোক। সরকারি হাসপাতাল থেকে শুরু হওয়া এই মানববন্ধনটি উপজেলা গেট হয়ে
দোহার থানার সামনে গিয়ে শেষ হয়।
এ বিষয়ে দোহার থানা ওসি তদন্ত অফিসার মো. নুরুন্নবী সাংবাদিকদের জানান, আসামীদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান চলছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন