দেবব্রত দাস দেবু, সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি.
মুন্সীগঞ্জ সিরাজদিখানে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মহাঅষ্টমী স্নানোৎসবে ঢল নেমেছে পুণ্যার্থীর। বুধবার রাত থেকে শুরু হয়। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রাম থেকে শত শত পুণ্যার্থী স্নানে অংশ নেন।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে, হে মহা ভাগ ইছামতি, হে পারবতি আমার পাপ হরণ কর- এ মন্ত্র উচ্চারণ করে পাপ মোচনের আশায় পুণ্যার্থীরা আদি ইছামতি নদীতে স্নানে অংশ নেয়। স্নানের সময় ফুল, বেলপাতা, ধান, দূর্বা, হরীতকী, ডাব, আমপাতা ইত্যাদি পিতৃকুলের উদ্দেশ্যে নদীর জলে অর্পণ করা হয়। লগ্ন শুরুর পর পরই পুণ্যার্থীর ঢল নামে সিরাজদিখান রশুনিয়া ইউনিয়নের দানিয়াপাড়া আখড়া ঘাটের ইছামতি নদীতে।
স্নান করতে আসা অলক কুমার বনিক বলেন, এই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের প্রায় ২ হাজার পুণ্যার্থী স্নানে অংশ নিয়েছেন বলে তারা ধারণা করছেন। প্রতি বছরের মতো এবারও পার্শ্ববর্তী সন্তোষপাড়া, রাজদিয়া, আবিরপাড়া, টেংগুরিয়াপাড়া, ইছাপুরা, দক্ষিণ তাজপুর, চোরমর্দ্দন থেকেও প্রচুর পুণ্যার্থী ইছামতি নদীতে স্নানে অংশ নিয়েছেন। তাদের পদভারে মুখর হয়ে উঠেছে দানিয়াপাড়া আখড়া ঘাটের ও সন্তোষপাড়া এলাকা।
সিরাজদিখান পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক জ্ঞানদীপ ঘোষ বলেন, আমরা পাপ মোচনের আশায় এই তিথিতে স্নান করি। আমরা কৃতজ্ঞ উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় জনগণের প্রতি, যাদের সহযোগিতায় সুন্দরভাবে পুণ্যার্থী স্নান সম্পন্ন হচ্ছে। আমি সকল ভক্তবৃন্দের শান্তি কামনা করি। শুভ মহা অষ্টমী।
সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুম্পা ঘোষ বলেন, অষ্টমী স্নান হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব। মহা অষ্টমীর এই পবিত্র দিনে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার সকল অষ্টমী স্নান ঘাটে ভক্তদের উপস্থিতি সত্যিই আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। এই উৎসব কেবল ধর্মীয় নয়, এটি আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
সরকার সব সময় ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি, যাতে সকল ধর্মের মানুষ নির্বিঘেœ তাদের উৎসব উদযাপন করতে পারেন।
আমি সকলকে শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব পালন করার আহ্বান জানাই এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করি। সকলের জন্য রইল শুভেচ্ছা,শুভ মহা অষ্টমী।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন