নবাবগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি.
ঢাকার নবাবগঞ্জের ইছামতি নদীর আগলা তীর্থস্নান ঘাটে সনাতন ধর্মীয় আচার বারুণী স্নানে ভক্ত,পূন্যার্থীদের ভীড়ে মুখরিত হয়ে উঠে।
মঙ্গলবার
(১৭ মার্চ) ভোর থেকে সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ‘মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদ্বশী তিথি
নক্ষত্র যোগে’ আগলা তীর্থস্নান ঘাটে দূরদুরান্ত থেকে পূণার্থীদের আগমন ঘটে।
বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভক্ত-পূণাথীতে পরিপূর্ণ হয়ে যায় ঘাট এলাকা। সনাতন
ধর্ম মতে, পাপ মোচনের আশায় মন্ত্রপাঠ করে নদীতে স্নান করতে সমবেত হন
পূণার্থীরা। পরে ঘাটে বসে থাকা সাধু-বৈষ্ণবদের অর্থ ও খাদ্য দান করা হয়।
স্নান উপলক্ষে ঐ এলাকায় গ্রাম্য মেলা বসে।
কমিটির সদস্যরা জানান,
মেলার আগত সহস্রাধীক পূণ্যার্থীদের সেবায় দুই, চিড়া, মুড়ি, ছাতু ও গুড় দেয়া
হয়। ইতালী প্রবাসী বিষ্ণুপদ সাহা, প্রদীপ সাহা, প্রিয়াঙ্কা সাহা আগত
পূণ্যার্থীদের জন্য এ আয়োজন করেন।
ভক্ত, পূন্যার্থীদের জন্য
মহাপ্রসাদের আয়োজন করেন স্থানীয় বাসিন্দা বিমল বালা, নারায়ণ সাহা, উত্তম
সাহা, লক্ষ্মণ পাল, রতন সাহা, নিরঞ্জন সাহা, বাদল সাহা, রতন মন্ডল, মাখন
বালা, ইতালি প্রবাসী বিষ্ণুপদ সাহা, প্রিয়াঙ্কা সাহা ও প্রদীপ সাহা।
আয়োজক
কমিটির সুভাষ চন্দ্র শীল, রতন সাহা জানান, ৪শ’ বছর আগে থেকে এ স্থানে
বারুণী স্নান আয়োজন হয়ে আসছে। এর জন্য এ ঘাটের নাম স্নানঘাট। ইছামতি নদীর
মরণ অবস্থা হলেও এ রীতি থেমে থাকেনি।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল
মান্নান জানান, এটি সনাতন ধর্মীয় অনুষ্ঠান হলেও স্নান ও মেলার নিরাপত্ত্বায়
এলাকার সকল ধর্ম-মতের মানুষ সমবেত হন। এটি আমাদের পুরনো দিনের একটি
দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।
তাছাড়া বিচ্ছিন্নভাবে নবাবগঞ্জের ইছামতি নদীর
নতুন বান্দুরা ঘাট, কলাকোপা পোদ্দার বাজার ঘাট, বাগমারা বাজার ঘাট,
বর্ধনপাড়া ঘাটে পূণার্থীরা স্নান করেন বলে জানা যায়।
অপরদিকে, স্নান কমিটির অন্যতম সহযোগী, স্থানীয় বাসিন্দা এস এম রতনের মৃত্যুতে শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন আগলা তীর্থস্নান ঘাট কমিটি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন